বীজের মূল্য বীজের জীবনীশক্তি পরীক্ষা
এই পরীক্ষার জনা বীজ গজানাের একটি প্রতিকূল অবস্থা সৃষ্টি করা হয় । এই প্রতিকূল অবস্থায় যে বীজ বেশি গজাবে সে বীজেরই জীবনীশক্তি বেশি বলে প্রতীয়মান হবে ।
বীজ বিপণন
বীজ বিপণন বীজ প্রযুক্তির একটি উল্লেখযােগ্য অংশ । বীজ বিপণন বলতে বীজ সংগ্রহ , প্যাকেজ করা , বিক্রিপূর্ব সংরক্ষণ , বিজ্ঞপ্তি , বিক্রি এসব কাকে এক কথায় বিপণন বলে । বীজ বিপণনকালে ক্রেতাদের
নিমােক্ত তথ্য প্রদান করতে হবে ।
- বীজের জাত নির্ধারণ
- বীজের জীবনকাল .
- বীজের পমিাণ নির্ধার
- বীজ উৎপাদনকারী সংস্থার নাম .
- বীজ অনুমােদনপ্রাপ্ত বা প্রত্যায়িত কি না
- বীজ অনুমােদন সংস্থার নাম
- বীজের অঙ্কুরােদগমের হার
- বীজ বপনের পদ্ধতি
- বীজের বিশুদ্ধতার হার
- সংরক্ষণের নির্দেশ
- বীজের আর্দ্রতা
- বীজের মূল্য
বীজ সংরক্ষণের গুরুত্ব ।
বীজ ভীষণ অনুভূতিপ্রবণ ; একটু অসর্তকতার জন্য বিপুল পরিমাণে বীজ নষ্ট হয় । কৃষকেরা তার নিজস্ব অভিজ্ঞতা অনুযায়ী বীজ সংব্রক্ষণ করেন । একটাই উদ্দেশ্য সামনের মৌসুমে যাতে সুস্থসবল বীজ বাজারে বিক্রি করতে পারেন । কিন্তু তবুও কীভাবে বীজের জীবনীশক্তি যাতে নষ্ট না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখেই বীজ সংক্ষণের পদ্ধতির উদ্ভাবন হয়েছে । ফসল বাছাই মাড়াই ও পরিবহনকালেই বীজ নষ্ট হয় বেশি । ইদুর , পাখি , ছত্রাক , আদ্রর্তা ইত্যাদির কারণে প্রায় দশ ভাগ ফসল নষ্ট হয় । এতদ্ব্যতীত বীজের সাথে ধুলাবালি , নুড়ি পাথরও বীজের গুণাগুণ নষ্ট করে । বীজ সংরক্ষণের প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলাে বীজের গুণগতমান রক্ষা করা এবং যেসব বিষয় বীজকে ক্ষতি করতে পারে সেগুলাে সম্পর্কে সতর্ক হওয়া ও প্রতিরােধের ব্যবস্থা করা ।
বীজ সংরক্ষণের পদ্ধতি
বাংলাদেশে বীজ সংরক্ষণের অনেক পদ্ধতি আছে । এক এক ফসলের বীজের জন্য এক এক রকম পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় । যেমন দানাজাতীয় শস্য- ধান , গম , ভুট্টা , বীজের জন্য ধানগােলা , ডােল মাটির পাত্র , চটের বস্তা , পলিব্যাগ ও বেড ব্যবহার করা হয় । নিম্নে ফসল সংরক্ষণের পদ্ধতি সম্পর্কে আলােচনা করা হলাে ।
বীজ শুকানাে ও চটের বস্তায় সংরক্ষণ
বীজ শুকানাে অর্থ হচ্ছে বীজ থেকে অতিরিক্ত আর্দ্রতা সরানাে এবং পরিমিত মাত্রায় আনা । আর্দ্রতার মাত্রা 12-১৩ % হলে ভালাে হয় । বাংলাদেশে বীজ শুকানাে হয় রােদে বা সূর্যতাপে । এই আর্দ্রতা ১২-১৩ শতাংশ নামাতে বীজগুলােকে প্রায় তিনদিন প্রখর রােদে শুকাতে হয় । ঠিকমতাে শুকিয়েছে কিনা তা বীজে কামড় দিয়ে পরখ করতে হবে । বীজে কামড় দেওয়ার পর যদি কট ’ করে আওয়াজ হয় তবে মনে করতে হবে বীজ ভালােমতাে শুকিয়েছে । অতঃপর বীজগুলােকে চটের বস্তায় নিয়ে গেলা ঘরে রাখা হয় । বীজ পােকার উপদ্রব থেকে রক্ষার জন্য বীজের বস্তায় নিমের পাতা , নিমের শিকড় , আপেল বীজের গুঁড়া , বিশকাটালি ইত্যাদি মেশানাে হয় ।
ধান গোলায় সংরক্ষণ
ধান সংরক্ষণের জন্য ধানের গােলা ব্যবহার হয়ে থাকে । ধান গােলার আয়তন বীজের পরিমাণের উপর নির্ভর করে নির্মাণ করা হয় । বীজ রাখার আগে ধান গােলার ভিতরে ও বাইরে গােবর ও মাটির মিশ্রণের প্রলেপ দিয়ে বীজ রাখার উপযুক্ত করতে হবে । বীজগুলাে এমনভাবে ভরতে হবে যেন এর ভিতর কোনাে বাতাস না থাকে । সেই জন্য ধানগােলার মুখ বন্ধ করে এর উপর গােবর ও মাটির মিশ্রণের প্রলেপ দিতে হবে ।
ভোলে সংরক্ষণ
ভােল আকারে ধান গােলার চেয়ে ছােট । ডােল ধানগােলার চেয়ে কম ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন বীজ পাত্র । এটি বাঁশ বা কাঠ দিয়ে গােলাকার করে তৈরি করা হয় । ধানগােলার মতােই ডােলের বাইরে ও ভিতরে গােবর ও মাটির মিশ্রণের প্রলেপ দিয়ে ভালােভাবে শুকিয়ে বীজ রাখার উপযুক্ত করা হয়।
পলিথিন ব্যাগে সংরক্ষণ
আজকাল পাঁচ কেজি ধারণক্ষমতা সম্পন্ন পলিথিন ব্যাগে বীজ সংরক্ষণ করা হয় । এই ব্যাগ আরডিআরএস কর্তৃক উদ্ভাবিত । সাধারণ পলিথিনের চেয়ে বীজ রাখার পলিথিন অপেক্ষাকৃত মােটা হয় । শুকনাে বীজ এমনভাবে পলিথিন ব্যাগে রাখতে হবে যাতে কোনাে ফাঁক না থাকে এবং ব্যাগ থেকে সম্পূর্ণ বাতাস বেরিয়ে আসে । অতঃপর ব্যাগের মুখ তাপের সাহায্যে এমনভাবে বন্ধ করতে হবে যেন বাইরে থেকে ভিতরে বাতাস প্রবেশের সুযােগ না থাকে ।
মটকায় সংরক্ষণ
মটকা মাটি নির্মিত একটি গােলাকার পাত্র । গ্রাম বাংলায় এটি বহুল পরিচিত । এটি বেশ পুরু এবং মজবুত । মটকার বাইরে মাটি বা আলকাতরার প্রলেপ দেওয়া হয় । গােলা ঘরের মাচার নির্দিষ্ট স্থানে মটকা রেখে এর ভিতর শুকনাে বীজ পুরােপুরি ভর্তি করা হয় । অতঃপর ঢাকনা দিয়ে বন্ধ করে উপরে মাটির প্রলেপ দিয়ে বায়ুরােধ করা হয় ।

Post a Comment